দোকানের রোজকার কাজ,
এক জায়গায়।
প্রথম বিক্রি থেকে দিনের শেষ হিসাব। কোন সুবিধা এখন চালু, আর কোনটি পরীক্ষামূলক—আলাদা করে দেওয়া আছে।
দ্রুত বেচাকেনা
ক্রেতার ভিড়েও দ্রুত বিল করুন।
- পণ্য খুঁজুন বা বারকোড স্ক্যান করুন। 3*egg লিখে একসঙ্গে পরিমাণ দিন, কিংবা ওজন বা টাকার অঙ্কে বিক্রি করুন। একটি বিল অসম্পূর্ণ রেখেও পরের ক্রেতার বিল করতে পারবেন।
- এক বিলের টাকা নগদে, বিকাশে, নগদ (Nagad), কার্ডে বা ব্যাংকে ভাগ করে নিন; কিছু টাকা বাকিও রাখুন। বিল চূড়ান্ত করার আগে ফেরত দেওয়ার টাকা ও মজুতের ঘাটতি দেখুন।
- ৮০ মিমি, A5 বা A4 আকারে বিল ছাপান, PDF রাখুন বা WhatsApp-এ পাঠান।

ভিড়ের সময়ও বিলের কাজ গুছিয়ে করুন।
ওজন বা টাকায় বিক্রি
ক্রেতা যতটুকু চান—ওজনে বা টাকায়—সেই হিসাবেই বিক্রি করুন।
- গ্রাম বা কেজিতে ওজন লিখুন।
- ৳৫০ টাকার চালের মতো টাকার অঙ্ক লিখলেই ওজন বের হবে।
- পরিমাণ, বিক্রির দাম ও মজুত কমার হিসাব একসঙ্গে রাখুন।
একই চাল, দুইভাবে কেনা। বিক্রির তালিকায় যোগ করার আগেই ওজন আর দাম দেখে নিন।
“৫০০ গ্রাম দিন।”

“৫০ টাকার দিন।”

আসল অ্যাপের নমুনা পর্দা · শুধু হিসাব দেখার জন্য অঙ্ক দেওয়া হয়েছে · বড় করে দেখুন ↗
ওজন দিলে দাম, টাকা দিলে ওজন—হিসাব করে দেবে অ্যাপ।
বস্তায় কেনা, কেজিতে বেচা
আপনি কেনেন বস্তায়। ক্রেতা নেন কেজিতে।
- ২৫ কেজির বস্তা, ৫ কেজির ব্যাগ বা খোলা কেজি—প্রতিটির নাম ও দাম দিন।
- বিক্রির পরিমাণ পুরো প্যাকের সমান হলে অ্যাপ সেই প্যাকের দাম ধরবে।
- কত বস্তা আর কত কেজি খোলা মাল আছে, একসঙ্গে দেখুন। নতুন মাল কেনার সময়ও বস্তা হিসেবে লিখতে পারবেন।

একই চাল। পরিমাণ বুঝে দাম বদলাবে নিজে থেকেই।
একই চাল। দুই রকম দাম।
পরিমাণ বদলে দেখুন। খোলা চাল ৳৭৮/কেজি। পুরো ২৫ কেজির বস্তা ৳১,৭০০।
আর ২ কেজি হলে বস্তার দাম লাগবে।
বোঝার জন্য নমুনা হিসাব; এটি আসল বিক্রির তালিকা নয়।
ছাড় থাকবে আপনার নিয়ন্ত্রণে
কে কত ছাড় দিলেন, কেন দিলেন—হিসাব রাখুন।
- কোন দায়িত্বে কে আছেন, সে অনুযায়ী ছাড়ের সীমা ঠিক করুন। চাইলে আলাদা কর্মীর সীমাও দিন। এক বিলে ও সারা দিনে মোট কত টাকা ছাড় দেওয়া যাবে, তাও ঠিক করে রাখুন।
- সীমার বেশি ছাড় বা কম লাভে বিক্রির জন্য PIN বা মালিকের ফোনে অনুমতি লাগবে।
- বড় ছাড় বা একই ক্রেতাকে বারবার ছাড় দেওয়ার খবর পান।

কর্মী ছাড় দিতে পারবেন। কতটা, তা ঠিক করবেন আপনি।
সীমার বাইরে গেলে আপনার অনুমতি লাগবে।
ভ্যাটের নিয়ম একবার ঠিক করুন
বিল আর ফেরতে একই নিয়ম থাকা চাই।
- ভ্যাট নেই, দামের মধ্যে ভ্যাট, অথবা দামের ওপর ভ্যাট—বেছে নিন।
- আপনার ঠিক করা ভ্যাট বিলেই দেখাবে।
- পণ্য ফেরত নিলে সেই বিক্রিতে ধরা ভ্যাটও হিসাব থেকে বাদ যাবে।

প্রতিটি বিল ও ফেরত আপনার ঠিক করা নিয়ম মানবে।
বাকি, আদায় ও জমা
কার কাছে কত বাকি, কত দিন হলো?
- বাকির সীমা ও শোধের তারিখ দিন। সীমা ছাড়ালে অনুমতি চাইবে।
- বাকি আদায় করলে সেই টাকা দিয়ে আগে সবচেয়ে পুরোনো বাকি শোধ হবে। অগ্রিম জমার হিসাব আলাদা থাকবে।
- WhatsApp-এ বাকি শোধের কথা মনে করিয়ে দিন। টাকা জমা নিলে রসিদ দিন।

কার কাছে কত পাওনা, এক জায়গায় দেখুন।

ক্রেতার অগ্রিম জমা
আগাম জমা টাকা আর বাকি এক জিনিস নয়।
- পরে নেওয়ার মালের জন্য ক্রেতার অগ্রিম জমা রাখুন।
- জমা টাকা বিলে ব্যবহার করুন, ফেরত দিন বা পরের কেনাকাটার জন্য রাখুন।
- ক্রেতা কত টাকা অগ্রিম রেখেছেন আর তাঁর কাছে কত বাকি আছে—আলাদা দেখুন।

ক্রেতার জমা টাকা আর তাঁর বাকি গুলিয়ে যাবে না।
অর্ডারের মাল গুছিয়ে, মিলিয়ে দিন
ক্রেতার ফর্দ অনুযায়ী পণ্য ও পরিমাণ ঠিক আছে কি না, যাচাই করুন।
- ক্রেতার নামে অর্ডার করুন বা আগের অর্ডার আবার নিন।
- একজন প্যাক করবেন, অন্যজন মিলিয়ে দেখবেন। নিজের প্যাক করা মাল নিজে যাচাই করা যাবে না।
- যতটুকু যাচাই হয়েছে বিক্রি করুন, বাকি অংশ পরে দেওয়ার তালিকায় রাখুন এবং সম্ভাব্য তারিখ দিন।

একজন মাল গুছিয়ে দেবেন, আরেকজন মিলিয়ে নেবেন।
ফর্দ অনুযায়ী মাল গুছিয়ে, মিলিয়ে দিন।
ফেরত নিন, হিসাব মুছবেন না
মাল ফেরত নিলে বিক্রি, লাভ ও ভ্যাটের হিসাবও ঠিক হওয়া দরকার।
- বিক্রির কিছু অংশ ফেরত নিন বা একই দিনের বিক্রি বাতিল করুন।
- নগদে বা বিকাশে টাকা ফেরত দিন, কিংবা ক্রেতার পরের কেনাকাটার জন্য জমা রাখুন।
- ফেরত নেওয়া পণ্যের লাভ ও ভ্যাট মূল বিক্রির হিসাব অনুযায়ী বাদ যাবে। আগের বিলের রেকর্ড থাকবে।

ভুল ঠিক করলেও আগের লেনদেনের রেকর্ড থাকবে।
কেনার আসল খরচ
ছাড়, ফ্রি মাল আর ভাড়া মিলিয়ে আসলে কত খরচ হলো?
- অর্ডারের মাল কয়েক দফায় এলে প্রতিবারের হিসাব রাখুন। বস্তায় কেনা বা ১০ কার্টনের সঙ্গে ১ কার্টন ফ্রি পাওয়ার তথ্যও লিখুন।
- ভাড়া ও সরবরাহকারীর ছাড় আসা পণ্যগুলোর খরচে ভাগ হবে।
- কোন মাল কত দ্রুত বিক্রি হচ্ছে দেখুন। ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই আবার কেনার পরিকল্পনা করুন।

১০ কার্টনের দামে ১১ কার্টন পেলে প্রতিটির কেনা খরচও কমবে।
১০টি কিনলে ১টি ফ্রি।
খরচ বাড়লে দাম দেখুন
তেলের কেনা দাম বাড়ল। আপনার বিক্রির দাম আগেরটাই।
- পুরো দোকান বা আলাদা পণ্যের জন্য কত শতাংশ লাভ রাখতে চান, ঠিক করুন।
- নতুন মাল এলে কোন পণ্যে আপনার চাওয়া হারে লাভ হচ্ছে না, দেখুন। সঙ্গে প্রস্তাবিত বিক্রির দামও পাবেন।
- প্রস্তাবিত দাম পূর্ণ টাকা বা ৫ টাকার গুণিতকে ঠিক করতে পারবেন। নতুন দাম রাখবেন কি না, সিদ্ধান্ত আপনার।

কোন পণ্যের দাম আবার দেখা দরকার, জানাবে। আপনার অনুমতি ছাড়া দাম বদলাবে না।
ক্রেতার পছন্দের ব্র্যান্ড
সঠিক পণ্য হলেই হয় না, ব্র্যান্ডটাও মেলা চাই।
- পণ্য → ব্র্যান্ড → প্যাক ধরে সাজান।
- খোঁজার সময় মজুতে থাকা পণ্য ও ক্রেতার নিয়মিত ব্র্যান্ড আগে আসবে।
- অন্য ব্র্যান্ড থাকলে দামের তফাত দেখিয়ে দিন।

কোন ব্র্যান্ড আছে, তা চোখের সামনে।
কম চলা ও অনেক দিন পড়ে থাকা মাল
বিক্রি না হওয়া মাল মানে টাকা আটকে থাকা।
- বিক্রির গতি, মজুত কত দিন চলতে পারে আর কত দিন বিক্রি হয়নি—দেখুন।
- অনুমতি থাকলে গড় কেনা দামে মজুতে আটকে থাকা টাকার হিসাব দেখুন।
- কত দিন বিক্রি না হলে নজর দিতে চান, তা ঠিক করুন। শুরুতে ৩০ দিন ধরা থাকে। এই তথ্য দেখে আবার কেনার সিদ্ধান্ত নিন।

কোন মাল পড়ে আছে বুঝে পরের কেনাকাটা ঠিক করুন।
না থাকা পণ্যের খোঁজ রাখুন
ক্রেতা এমন কিছু চাইলেন, যা দোকানে নেই।
- কোন পণ্য চেয়েছেন লিখে রাখুন।
- মনে রাখার বদলে এমন চাহিদাগুলো এক জায়গায় রাখুন।
- পরের বার কোন মাল তুলবেন, তা ঠিক করতে তালিকাটি দেখুন।

আজ বিক্রি না হলেও পরের কেনায় কাজে লাগবে।
আসল লাভ জানুন
কত বিক্রি হলো জানেন। কেনা খরচ বাদে কত থাকল?
- নতুন মাল এলে আগের মজুত ও নতুন মালের খরচ মিলিয়ে গড় কেনা দাম হিসাব হয়।
- বিক্রি, পণ্য ও ব্র্যান্ড ধরে লাভ দেখুন। অনুমতি ছাড়া কর্মীরা কেনা দাম ও লাভ দেখবেন না।
- লাভ-লোকসান দেখুন, CSV নামান এবং মূল হিসাব পর্যন্ত মিলিয়ে নিন।

কেনার খরচ ধরেই বিক্রির লাভ দেখুন।
নগদ, ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের হিসাব
ক্যাশবাক্স, মোবাইল ওয়ালেট আর ব্যাংক আলাদা।
- নগদ টাকা, ব্যাংক, বিকাশ, নগদ (Nagad) ও কার্ডের হিসাব আলাদা রাখুন।
- আগে নিজে টাকা গুনে লিখুন, তারপর খাতার অঙ্কের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
- এক হিসাব থেকে অন্য হিসাবে টাকা নেওয়া, লেনদেনের ফি, মালিকের জমা ও উত্তোলন লিখে রাখুন। গরমিল থাকলে কারণ লিখে দিনের হিসাব শেষ করুন।

কোন খাতে কত টাকা এলো বা গেল, রেকর্ড দেখে মিলিয়ে নিন।
খরচ ও বেতন
বিল, অনুমতি আর টাকা দেওয়া—আলাদা ধাপ।
- খরচের ভাউচার করুন, অনুমোদন দিন, তারপর পরিশোধ লিখুন।
- নিয়মিত বিল ও বেতন দেওয়ার আগে দেখে নিন।
- অগ্রিম, কেটে রাখা টাকা ও খরচের রিপোর্ট দেখুন।

কত টাকা দেওয়ার কথা, কত দেওয়া হয়েছে—দুটোই দেখুন।
ব্যবসার আলাদা সঞ্চয়
আলাদা করে রাখা টাকা আর লাভ এক নয়।
- দোকানের লাভ থেকে সঞ্চয়ের হিসাব আলাদা দেখুন।
- কত টাকা আলাদা রাখবেন ঠিক করার আগে বাকি টাকার হিসাবও দেখুন।
- সঞ্চয়ের হিসাব কীভাবে দেখালে সুবিধা হয়, দোকানমালিকদের সঙ্গে তা যাচাই করা হচ্ছে।

আলাদা রাখা টাকা ও দোকানের লাভের হিসাব পৃথক থাকবে।
সকাল-সন্ধ্যার সারসংক্ষেপ
দিনের শুরু ও শেষে বিক্রি, বাকি আর নগদের হিসাব এক নজরে।
- বিক্রি, পণ্যের লাভ, বাকি ও হাতে টাকা একসঙ্গে দেখুন।
- সকালে দোকান খোলার সময় করণীয়গুলো দেখে নিন।
- দিন শেষে বিক্রি, লাভ, বাকি ও নগদের সারসংক্ষেপ দেখুন।

তৈরি আছে; আসল ডিভাইসে পরীক্ষা ও মালিকদের সঙ্গে ভাষা যাচাই বাকি।
যার কাজ, তার অনুমতি
কাউন্টারের কর্মীর বিক্রি করা দরকার, কেনা দাম দেখা নয়।
- মালিক, ম্যানেজার ও কর্মীর ভূমিকা দিন; দরকারমতো বাড়তি অনুমতি বেছে নিন।
- কর্মীরা নিজের বিক্রি দেখবেন, কেনা দাম ও লাভ নয়।
- প্রতিটি অনুমতি বদলের সঙ্গে নাম ও সময় থাকবে।

যার যতটুকু কাজ, ততটুকু সুযোগ দিন।


দরকারি খবর এক ইনবক্সে
মালিক সব সময় সব কাউন্টারে থাকতে পারেন না।
- অনুমতির অনুরোধ, কম মজুত ও বাকি শোধের সময় পেরোনোর খবর এক জায়গায় পান।
- দেরি হওয়া ডেলিভারি, পড়ে থাকা পণ্য ও হিসাবের গরমিল দেখুন।
- দূর থেকেই অনুমতির অনুরোধের উত্তর দিন। কাজ হয়ে গেলে চিহ্নিত করুন, অথবা পরে দেখার জন্য রাখুন। কে অনলাইনে আছেন, তাও দেখুন।

কোন কাজে আপনার সিদ্ধান্ত দরকার, এক জায়গায় দেখুন।
হিসাবে ভরসা
হিসাবে কোনো প্রশ্ন উঠলে মূল লেনদেনটি খুঁজে দেখুন।
- টাকার অঙ্ক পয়সা এককে রাখা হয়। প্রতিটি লেনদেনের দুই দিকই হিসাবের খাতায় লেখা হয়।
- চূড়ান্ত করা লেনদেন বদলে বা মুছে ফেলা হয় না। ভুল ঠিক করলে আলাদা সংশোধনের রেকর্ড থাকে।
- আবার চেষ্টা করলে একই বিক্রি দুবার জমা হবে না।

আগের লেনদেন ও তার সংশোধন—দুটোরই রেকর্ড থাকবে।
শুরু করার আগে দেখে নিন
পুরোনো পণ্যের তালিকা আবার লিখতে হবে কেন?
- ফাইল থেকে আগে পণ্যের তালিকা, তারপর ক্রেতার তালিকা যোগ করুন।
- তালিকা যোগ করার আগে নাম, দাম ও পরিমাণ মিলিয়ে নিন।
- শুরু করার ধাপগুলো অনুসরণ করুন। প্রথম সপ্তাহে বর্তমান ব্যবস্থার পাশাপাশি ব্যবহার করে হিসাব মিলিয়ে নিন।

তালিকা দেখে আপনি নিশ্চিত করলেই তথ্য যোগ হবে।
